গণভবনের মাল লুট: মানসিক বিকারগ্রস্ততা নাকি অন্য কিছু?
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ০৪:২৭ ৮ আগস্ট ২০২৪

অতি আনন্দে মানুষ গণভবনে ঢুকে ভাঙচুর লুট চালালো। আবার সেই লুটের মালপত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনন্দে প্রকাশও করলো? তাহলে কী সবাই মানসিক বিকারগ্রস্ত? মাহফুজা সোমা নামের এক উদ্যোক্তা নারী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনেকগুলো শাড়ি নিয়ে এসে, নিজের ফেইসবুকে প্রকাশ করা মাত্রই সবার রোষানলে পড়ে গেলেন।
নিজের ভুল বুঝতে পেরে ফেইসবুকে সেটা স্বীকার করে তিনি লেখেন, ‘আমি আসলেই দুঃখিত। এখন নিজের কাছেই খারাপ লাগছে। আমি যদি চুরি করতাম তাহলে কি পোস্ট করতাম? গণভবনের জিনিস সবাই সুভেনিয়র/ স্মৃতি হিসেবে নিয়ে আসছে। আমিও নিয়ে আসছিলাম রেখে দেওয়ার জন্য। অবশ্যই নিজে পরার জন্য না। এখন মনে হচ্ছে- সেটা এমন কোনো সংস্থা বা জাদুঘরে ফেরত দেওয়া উচিত যারা এইগুলা যত্ন করে রাখবে।’
তারপরেই একটি ভিডিও পোস্টে দেখা যায়, শাড়িসহ যা যা এনেছিলেন সেগুলো সেনাবাহিনীর কাছে ফেরত দিয়েছেন।সামাজিক মনোবিজ্ঞানে একে ‘মব মেন্টালিটি’ বা অনেকগুলো মানুষের কাজের প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে জনতার মাঝে থেকে নিজের একক স্বত্ত্বা হারিয়ে ফেলে মানুষ। ফলে অনেকগুলো মানুষ যা করছে সেটাই করা শুরু করে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিশু-কিশোর ও পারিবারিক মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মনোবিজ্ঞানে ‘কনফর্মিটি’ বলে একটা কথা আছে। মানে অন্যের সাথে নিজেকে ‘কনফর্ম’ বা একাত্ম ঘোষণা করা। অনেকগুলো মানুষ যখন একই কাজ করে তখন দুয়েকজন মানুষ একা থাকতে পারে না। তারাও সেটাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে।”
এটার একটা উদাহরণ হল- গণপিটুনি যখন হয়। একটা মানুষের মধ্যে ‘কিলার মেন্টালিটি’ নেই, যে কখনও কাউকে মারতে চায় না। কিন্তু গণপিটুনির সময় সেও হয়ত দুয়েকটা ঘুষি দিয়ে আসে। অথচ সে হয়ত জীবনে কখনও একটা ফুলের টোকা দেয়নি কাউকে।
“অনেক মানুষ যখন একটা কাজ করে তখন ‘সোশাল ড্রিভেন’ তৈরি হয়। মানুষ যেহেতু সামাজিক প্রাণী সেহেতু সমাজের ভারী অংশের দিকেই সে ধাবিত হয়”- মন্তব্য করেন ডা. হেলাল।
লুটের মাল নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করা কি তবে মানসিক বিকাগ্রস্ততার পরিচয় দেয়?
ডা. হেলাল ব্যাখ্যা করেন, “এটা আসলে মানসিক বিকারগ্রস্ততার মধ্যে পড়ে না। সবাই করছে আমিও করে ফেলছি- এরকম একটা বিষয়। যখন এই ধরনের পরিস্থিতি ঘটে তখন আবেগটা বেড়ে যায়। যাকে বলা হয় আবেগের আতিশয্য। আনন্দ যেমন কাজ করে তেমনি কারও কারও মধ্যে হয়ত ক্ষোভ ছিল, অপ্রাপ্তি ছিল- সব কিছু মিলিয়ে উল্লাসের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখতে পেয়েছি গণভবনে সাধারণ মানুষ ঢুকে যাওয়ার ঘটনায়।”
দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে, সব সময় কিন্তু কিছু সুযোগ সন্ধানী অপরাধী মানুষ থাকে। তারা এই ধরনের পরিস্থিতিতে সুযোগ নেয়। ফলে লুটতরাজ আক্রমণ এটা অপরাধীদের কাজ। এটাকে আবেগের আতিশয্য বলা যাবে না। কিন্তু মানুষ যে গণভবনে ঢুকে যাচ্ছে হৈচৈ করেছে সেটা আবেগের আতিশয্য।
এই ধরনের আবেগ নিয়ন্ত্রণের উপায় কী?
উত্তরে ডা. হেলাল বলেন, “উপায় হল জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ তৈরি করা। তাহলে এসব ঘটবে না। সেখানে আবেগের চাইতে জ্ঞানটা এগিয়ে থাকবে। যেমন- শ্রীলঙ্কাতে কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর সব জায়গায় ঘটনা ঘটে নাই। তারা কিন্তু একটা জায়গাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। এছাড়া অন্য কোথাও কোনো হাঙ্গামার কথা শোনা যায়নি। খবরও আসেনি।”
অথচ যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের গুলির ঘটনার পর অনেক কিছু হতে দেখা গেছে- মন্তব্য করেন এই মনোচিকিৎসক। তার কথায়, “যদিও আমরা আমেরিকাকে অনেক উঁচু জায়গাতে রাখি, তবে তুলনামূলক হিসেবে শ্রীলঙ্কা জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ। যেটা আমেরিকার সমাজ না, তাদেরটা অনেকটা আমাদের মতো আবেগের স্রোতে চালিত হওয়া সমাজ।” সমাজ যদি জ্ঞান-ভিত্তিক হয়, সমাজের মানুষের যদি যুক্তিবোধ প্রবল থাকে তখন এই ধরনের ঘটনাগুলো কম ঘটবে।
এই জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ তৈরি করার দায়িত্ব কাদের?
এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের কিছু নীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবার। ডা. হেলাল এই তিন উপাদান উল্লেখ করে বলেন, “আমি যুক্তি দিয়ে পরিচালিত হব না-কি আবেগে পরিচালিত হব- সেই মানসিকতার তৈরিতে এই তিন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আমি কি জ্ঞানটা’কে কাজে লাগাবো না-কি এই মুহূর্তে যে ক্ষোভ আছে সেটা প্রকাশ করবো?”
এটি কিন্তু নিরূপন করে তার পারিবারিক শিক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। আর রাষ্ট্রের কিছু নীতি দীর্ঘদিন ধরে এটা তৈরি করবে। এই মনোবিজ্ঞানী ব্যাখ্যা করেন, “এটা ‘ইকোলজিক্যাল সিস্টেম’ বা পরিবেশগত ব্যবস্থার অংশ। যখন রাষ্ট্রের নীতি ভালো থাকে যে, একটা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ হবে তখন পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেভাবেই পরিচালিত হয়।”
পারিবারিক কাঠামোতে তখন অনৈতিক-চর্চা থাকে না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তখন সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলার প্রবণতাগুলো শেখায়। আর অন্যের মতের প্রতি সহিষ্ণুতা বা সম্মান প্রদর্শনের মানসিকতা তৈরি করে।
- জজের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় সাংবাদিক আনোয়ার হক আহত
- মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা
- আমের পাতাও ফেলনা নয়, রয়েছে হাজারো গুণ
- বাংলাদেশে ঈদ সোমবার, ৩ দেশে তারিখ ঘোষণা: খালিজ টাইমস
- ঈদে মুক্তি পাচ্ছে যে ৬ সিনেমা
- ভূমিকম্প হওয়ার আগে সতর্ক করবে গুগল
- নিজের প্রতিষ্ঠান নিজেই কিনলেন ইলন মাস্ক!
- রাকসু গঠনতন্ত্র বিষয়ক কিছু পরামর্শ
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবেন যে ৫ ফল
- বাসায় ফিরেই ফেসবুকে পোস্ট তামিমের, যা জানালেন
- ঈদের আগে চাকরি হারালেন রাসিকের ১২০ কর্মচারী
- শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড মিয়ানমার-থাইল্যান্ড, ১৫০ জনের মৃত্যু
- রোববার বসছে চাঁদ দেখা কমিটি, জানা যাবে কবে ঈদ
- ডিআরইউতে হামলায় আহত ৩, গ্রেফতার ২
- ঈদের ছুটি: বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করার যত উপায়
- আবারও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে তামিমের: চিকিৎসক
- ময়মনসিংহে একটি গ্রাম বিক্রি করে দিলেন এক ব্যক্তি
- ঘুষি মেরে বেশ করেছি, ও যা নোংরামি করেছে এটাই প্রাপ্য: শ্রাবন্তী
- মেয়র হিসেবে শপথ নেয়া নিয়ে যা বললেন ইশরাক
- ‘ছাত্র-জনতার দাবিতে’ কাপড় দিয়ে ঢাকা হলো মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল
- `গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনার` অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা
- ও আলোর পথযাত্রী, এখানে থেমো না
- লাইলাতুল কদরে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়
- অনিশ্চয়তার অবসান: ঈদেই মুক্তি পাচ্ছে শাকিবের দুই সিনেমা
- আর্জেন্টিনার কাছে ৪ গোল হজম, ক্ষমা চাইলেন ব্রাজিল অধিনায়ক
- আড়াই প্যাঁচের জিলাপিতে এত গুণ
- হার্ট অ্যাটাক: জীবন বাঁচাতে শিখে নিন সিপিআর পদ্ধতি
- তরমুজের সাদা অংশ খেলে পাবেন ৬ উপকার
- সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা সন্জীদা খাতুনের বিদায়
- হার্ট অ্যাটাক নিয়ে ৭ মিথ
- আমের পাতাও ফেলনা নয়, রয়েছে হাজারো গুণ
- সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা সন্জীদা খাতুনের বিদায়
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবেন যে ৫ ফল
- ঈদের ছুটি: বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করার যত উপায়
- রাকসু গঠনতন্ত্র বিষয়ক কিছু পরামর্শ
- ভূমিকম্প হওয়ার আগে সতর্ক করবে গুগল
- হার্ট অ্যাটাক নিয়ে ৭ মিথ
- তরমুজের সাদা অংশ খেলে পাবেন ৬ উপকার
- ও আলোর পথযাত্রী, এখানে থেমো না
- আবারও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে তামিমের: চিকিৎসক
- শতাধিক গাড়ির বহর:জারার প্রশ্ন,জবাবে দাদার সম্পত্তি দেখালেন সারজিস
- উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান
- আড়াই প্যাঁচের জিলাপিতে এত গুণ
- বাসায় ফিরেই ফেসবুকে পোস্ট তামিমের, যা জানালেন
- আর্জেন্টিনার কাছে ৪ গোল হজম, ক্ষমা চাইলেন ব্রাজিল অধিনায়ক
- ‘ছাত্র-জনতার দাবিতে’ কাপড় দিয়ে ঢাকা হলো মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল
- রোববার বসছে চাঁদ দেখা কমিটি, জানা যাবে কবে ঈদ
- সারজিসের গাড়িবহরের অর্থায়ন নিয়ে ব্যাখ্যা চাইলেন তাসনিম জারা
- ঘুষি মেরে বেশ করেছি, ও যা নোংরামি করেছে এটাই প্রাপ্য: শ্রাবন্তী
- ঈদের আগে চাকরি হারালেন রাসিকের ১২০ কর্মচারী