ঢাকা, ০১ মার্চ শনিবার, ২০২৫ || ১৬ ফাল্গুন ১৪৩১
good-food
১০

বাসায় কাকের ছানাপোনারা বড় হয়ে উঠছে

লাইফ টিভি 24

প্রকাশিত: ০১:০৮ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫  

বাসায় কাকের ছানাপোনারা বড় হয়ে উঠছে, তাদের পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন। তাই এক কাক জ্যান্ত ইঁদুর ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। ইঁদুরের কপাল ভালো, ঠোঁট ফসকে পড়বি পড়, না মালির ঘাড়ে নয় পড়লো এক ধ্যানমগ্ন ঋষির কোলে। মায়াবশত ঋষি জরিবুটির মলম লাগিয়ে ইঁদুরটিকে সুস্থ করে তুললেন। তো ইঁদুর ফুরফুরে মেজাজে আশ্রমে ঘুরে ফিরে বেড়ায়। একদিন এক বিড়াল তাকে তাড়া করলো। ইঁদুর তড়িঘড়ি ঋষির পায়ের কাছে এসে লুকালো।

 

স্নেহের বশবর্তী হয়ে ঋষি তাকে বিড়াল বানিয়ে দিলেন। বিড়াল হয়ে তার তড়পানি কিঞ্চিত বেড়ে গেল। বিরক্ত হয়ে এক কুকুর একদিন তাকে তাড়া করলো। সে এসে আবার ঋষি বাবার পায়ের কাছে আশ্রয় নিল। যা ভাবছেন তাই, ঋষি বাবা তাকে কুকুর করে দিলেন। তো সে এবার আশ্রম ছেড়ে আশেপাশের জঙ্গলেও ঘুরাঘুরি শুরু করল। একদিন তাকে জঙ্গলে হিসু করতে দেখে জঙ্গলের রাজা যিনি সেই বাঘ তাকে তাড়া করল।

 

প্রাণীদের হিসু করার একটা মরতবা আছে। নিজের টেরিটোরির সীমানা চিহ্নিত করতে তারা এই কাজটি করে থাকে - কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার মতো। যাই হোক বাঘের দৌড়ানি খেয়ে প্রশ্রয়দাতা ঋষির শরণাপন্ন হতেই তিনি তাকে আশীর্বাদ করলেন, শার্দূলোভব - যা বাঘ হয়ে যা। তপস্যাবলে ঋষির অনেক ক্ষমতা - তপোবনে তার নামডাক আছে। কথা এ কান ও কান হতে লাগলো।

 

কনভার্টেড বাঘ ভেবে দেখল, এই ঋষি বেঁচে থাকলে প্রকৃত বাঘের স্ট্যাটাস পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে যাবে। তাই তাকে গুম-খুনের প্ল্যান করে তার ডেরার দিকে রওনা দিল। ঋষি তপস্যা বলে ব্যাপারটা জেনে গেল। তার সমুখে আসলে হাতে অভিশাপের মুদ্রা দেখিয়ে মন্ত্র পড়লেন, "অয়ি  কৃতঘ্নে, পুনর্মূষিকোভব"। বাংলা মানে করলে দাঁড়ায় , হারামখোরের বাচ্চা, তুই আবার নেংটি ইঁদুর হয়ে যা। তো তাই হলো। ও, গল্পটা আপনারা জানেন! আপনারাও ইদানিং বাঘরূপী ইঁদুরের লম্ফঝম্প দেখে অতিষ্ঠ? তো হাত তুলে বলেন, "পুনর্মূষিকোভব"।

 

লেখক: আনহারুল ইসলাম

ইঞ্জিনিয়ার, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি