যারা ঈদে গ্রামে যাচ্ছেন, তাদের কাছে ২ অনুরোধ
আহসান রনি
লাইফ টিভি 24
প্রকাশিত: ১৬:১৫ ১৮ এপ্রিল ২০২৩

যারা এবার ঈদের ছুটিতে গ্রামে যাচ্ছেন, আপনাদের কাছে দুটি বিশেষ অনুরোধ! প্রথমটি, আমার পুরো লেখাটি একটু আন্তরিকতার সঙ্গে পড়ার অনুরোধ। দ্বিতীয়টি, আপনারা ইদের ছুটিতে গ্রামে গিয়ে প্রত্যেকেই প্লিজ চেষ্টা করবেন আপনার বাড়ির আঙিনা অথবা পতিত জমিতে এবার অন্তত ১০টি দেশজ গাছের চারা রোপন করে কাউকে তা ৬ মাস দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে আসতে। অথবা চাহিদাসম্পন্ন এমন প্রতিবেশী যার আঙিনায় কিছুটা জায়গা আছে এবং গাছগুলো পেলে যদি সে তা পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে উৎসাহী হন, তাকেও কিছু গাছ উপহার দিয়ে আসতে৷
যদি পরবর্তীতে গাছের জন্য খুঁটি ও খাঁচার প্রয়োজন হয়, তাহলে একটু কষ্ট করে হলেও সেগুলোর ব্যবস্থাও প্লিজ করে আসবেন। সামনে দ্রুতই বৃষ্টি শুরু হবে। ফলে এবার ইদে যদি এতটুকু কাজ করে আসতে পারেন, তাহলে আড়াই মাস পর কোরবানি ইদে বাড়ি ওিগয়ে নতুন কচিপাতা সমেত বাড়ন্ত গাছগুলো দেখে আপনার মন ভরে উঠবে কথা দিচ্ছি।
একইভাবে ঠিক এক বছর পর সামনের রোজার ইদে বাড়ি গিয়ে যদি দেখেন, আপনার গাছগুলো উচ্চতায় আপনাকে ছাড়িয়ে গেছে, ছোট ছোট ডালপালা মেলে সবে একটু আধটু ছায়া দিতে শুরু করেছে, আপনি অতটুকু ছায়ার নিচেই মনের আনন্দে বসে পড়বেন আর আপনার মনের মধ্যে একধরনের সুশীতল বাতাস বইতে আরম্ভ করবে।
আপনি আরো আনন্দিত হয়ে চারপাশের বাকি গাছগুলোর দিকে আনমনে তাকিয়ে থাকবেন। আর মনে মনে ভাবতে থাকবেন, সামান্য চেষ্টাতেই কি অসাধারণ একটি কাজ করে ফেলেছেন গত বছর। এই কাজটুকু করতে যদি কোনও টেকনিক্যাল হেল্প দরকার হয়-যেমন, কি ধরনের বা সাইজের গাছ লাগাবেন, ভালো চারা কিভাবে চিনবেন, কিভাবে সঠিক পদ্ধতিতে গর্ত করা থেকে শুরু করে চারাটি রোপন করবেন কিংবা প্রয়োজনে কিভবে সার প্রয়োগ করবেন, এর যেকোনও বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসা থাকলে প্লিজ কমেন্টে লিখে জানাবেন। আমি যত দ্রুত সম্ভব সাধ্যমতো সব উত্তর দেয়ার আন্তরিক চেষ্টা করব।
আমি পরিবেশের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে ২০১০ সাল থেকে এই শহরে গাছের পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করছি। একাডেমিক পড়াশোনা সম্পন্ন করে গাছপালা ছাড়া আর কোনও কিছুতেই মন স্থির করতে পারিনি। ফলে এ শহরের গাছপালাতেই আটকে গিয়ে আঁকড়ে ধরেছিলাম। রাস্তা, ফুটপাত, মিড়িয়ান, মাঠের চারপাশ, একটু খালি জায়গা যেখানেই সুযোগ পেয়েছি চারা পুঁতে দিয়েছি। আর বিগত ১৩ বছরে চোখের সামনে এ শহরের ল্যান্ডস্কেপ বা গাছপালার বিস্তৃতির অনেক বদলে যাওয়া বা বদলে দেয়া দেখেছি।
এ শহরটার রাস্তার পাশে, ফুটপাতে, মিডিয়ানে নিজের হাতে রোপণ করা চারাগুলো গাছ হয়ে উঠবার আগেই রাস্তা প্রসস্থকরণ, মিডিয়ান পুননির্মাণ আর ফুটপাত সংস্কারের নামে কুড়ালের এক আঘাতে একেকটি প্রাণ হত্যা করতে দেখেছি চোখের সামনে।
ধরুন, ১০/১১ বছর আগে আপনার নিজের হাতে রোপণ করা বেশকিছু গাছ, যা এতদিনে বেশ বড় হয়েছে। আপনি সেই ছোট্ট চারা থেকে একটু একটু করে চোখের সামনে বড় হতে দেখেছেন সেই গাছগুলোকে আয়োজন করে আপনার সামনেই কেটে ফেলা হচ্ছে। অথচ আপনি তেমন কিছুই করতে পারছেন না।
যাদের বাসাবাড়ির সামনের রাস্তাজুড়ে এই গাছগুলো বেড়ে উঠছিল, তারা কেউই বাধা দিতে আসছেন না বা কোনও প্রতিবাদ করছেন না। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবেশবাদীরা এসে একত্র হয়ে প্রতিবাদে দাঁড়ালেও স্থানীয়দের তেমন কাউকেই পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে আপনার কেমন অনুভূতি হবে? আমি সাম্প্রতিক সময়ে এমন কঠিন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছি। নিজের মধ্যে মানসিকভাবে অনেকটাই অসংলগ্নতা লক্ষ করতে শুরু করি।
রাতে ঠিকমতো ঘুম হচ্ছিল না। কোনও বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারছিলাম না। যেকোনও একদিকে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে পারছিলাম না। এমন আরো কিছু বিকৃতি অনুভব করতে শুরু করি নিজের মধ্যে। এরপর মনস্থির করতে গতমাসে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে সপ্তাহ দুয়েকের জন্য ওমরাহ করতে চলে যাই। হারাম শরীফে গিয়ে দেখি একটু পর পর কি অসাধারণ নৈপুণ্যে ঝুলন্ত বাগান বা ভার্টিকাল গার্ডেন গড়ে তোলা হয়েছে।
মরুভূমি আর পাহাড়ের দেশ অথচ প্রশস্ত রাস্তার মিডিয়ানগুলোতে কি সুন্দর সবুজের সমারোহ। অথচ আমাদের এই শহরে এখন গাছ লাগানোর স্থান প্রায় নাই বললেই চলে। ক্রমেই গাছের স্থানগুলো দখল করে নিচ্ছে কনক্রিট আর হঠাৎ কোথাও কিঞ্চিৎ লতাগুল্ম। ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস বাংলাদেশ প্রোগ্রামের সাম্প্রতিক এক গবেষণার পাওয়া গেছে, এ শহরে সবচেয়ে ডমিনেন্ট স্পিসিজ হলো আম গাছ৷ অথচ এসময়ে যেখানে সম আম গাছই মুকুলে বা গুটি আমে ছেঁয়ে থাকবার কথা, সেখানে এ শহরের অধিকাংশ আম গাছেই আপনি কোনও মুকুল দেখতে পাবেন না।
মুকুল তো দূরের কথা, এ কয়দিনে ধুলায় জর্জরিত গাছগুলোর দিকে তাকানোই যাচ্ছে না। ধুলার আস্তরে ঢাকা পাতাগুলোর স্বাস নিতে কতই না কষ্ট হচ্ছে। টানা প্রায় দুই সপ্তাহ প্রচন্ড কাঠফাটা রোদ, অসহ্য গরম বাতাস, এক ফোটা বৃষ্টি নেই। অথচ এই শহরের গাছগুলোর গোড়ায় এক মগ পানি ঢালার কোথাও কেউ নেই। যে দুয়েকটা গাছে একটু আধটু মুকুল বা গুটি এসেছিল তা পানির অভাবেই ঝরে যাচ্ছে।
অথচ এই গাছগুলো নিশ্চই কারো না কারো বাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা যাতায়াতের পথেই পানির অভাবে ধুঁকছে। এ শহরে এত এত মানুষ অথচ বাসার পাশের যে গাছটি তাকে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখছে সেই গাছের গোড়ায় দুই মগ পানি ঢাকার জন্য কেউই এগিয়ে আসছেন না৷
এই শহরে এখন কোথাও দুই, চারটি চারা রোপণ করতে গেলে আপনি অনেকের চক্ষুশূল হতে পারেন। কারণ ওখানে হয়তো ইতোমধ্যে সরকারিভাবে সৌন্দর্যবর্ধনের টেন্ডার হওয়ার প্রক্রিয় চলছে। তারপরও যদি আপনি কিছু গাছ লাগিয়েই ফেলেন, তাহলে আমার অভিজ্ঞতা মতে; আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন টেন্ডার হয়ে গেলেই দ্রুততার সঙ্গে আগের লাগানো সব গাছ কেটে সাফ করে নতুন করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হবে।
এক্ষেত্রে আগে লাগানো গাছটি কেমন বয়সের, কোন জাতের কিংবা কি উদ্যেশ্যে লাগানো হয়েছিল এর কোনও কিছুই বিবেচিত হবে না। এমনও হয়েছে ৬ বছরের বড় গাছ কেটে ফেলে একই স্থানে একই জাতের ৬ মাসের ছোট চারা রোপণ করা হয়েছে সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে। এ শহরে এখনো কিছু জায়গায় ৫/১০ টা গাছ আপনি হয়তো সাহস করে লাগিয়ে ফেলতে পারবেন।
কিন্তু সেই গাছ বাঁচিয়ে রাখবার কর্তত্ব বা অধিকার কোনও কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে না৷ এ শহরে যদি কোনও গাছ কাটার তালিকায় পড়ে যায়, তাহলে সে গাছ যত বড়ই হোক না কেন, যে জাতেরই হোক না কেন, এর সঙ্গে আপনার বা আমার যত আবেগ অনুভুতিই জড়িয়ে থাক না কেন, গাছ কাটা পড়বেই সে যে কৌশলেই হোক।
ফলে আসুন এমন যায়গায় চারা রোপণ করি যেখানে কেউ তাকে লালন করবে, যেখানে সে পরম যত্নে বাড়বে, যেখানে চারাটির বড় হয়ে বৃক্ষ হয়ে উঠবার স্বাধীনতা থাকবে, যেখানে সে মহিরুহ হয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখবে।
লেখক: আহসান রনি
প্রতিষ্ঠাতা, গ্রিন সেভার্স
- জজের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় সাংবাদিক আনোয়ার হক আহত
- মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা
- আমের পাতাও ফেলনা নয়, রয়েছে হাজারো গুণ
- বাংলাদেশে ঈদ সোমবার, ৩ দেশে তারিখ ঘোষণা: খালিজ টাইমস
- ঈদে মুক্তি পাচ্ছে যে ৬ সিনেমা
- ভূমিকম্প হওয়ার আগে সতর্ক করবে গুগল
- নিজের প্রতিষ্ঠান নিজেই কিনলেন ইলন মাস্ক!
- রাকসু গঠনতন্ত্র বিষয়ক কিছু পরামর্শ
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবেন যে ৫ ফল
- বাসায় ফিরেই ফেসবুকে পোস্ট তামিমের, যা জানালেন
- ঈদের আগে চাকরি হারালেন রাসিকের ১২০ কর্মচারী
- শক্তিশালী ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড মিয়ানমার-থাইল্যান্ড, ১৫০ জনের মৃত্যু
- রোববার বসছে চাঁদ দেখা কমিটি, জানা যাবে কবে ঈদ
- ডিআরইউতে হামলায় আহত ৩, গ্রেফতার ২
- ঈদের ছুটি: বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করার যত উপায়
- আবারও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে তামিমের: চিকিৎসক
- ময়মনসিংহে একটি গ্রাম বিক্রি করে দিলেন এক ব্যক্তি
- ঘুষি মেরে বেশ করেছি, ও যা নোংরামি করেছে এটাই প্রাপ্য: শ্রাবন্তী
- মেয়র হিসেবে শপথ নেয়া নিয়ে যা বললেন ইশরাক
- ‘ছাত্র-জনতার দাবিতে’ কাপড় দিয়ে ঢাকা হলো মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল
- `গৃহযুদ্ধের পরিকল্পনার` অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা
- ও আলোর পথযাত্রী, এখানে থেমো না
- লাইলাতুল কদরে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়
- অনিশ্চয়তার অবসান: ঈদেই মুক্তি পাচ্ছে শাকিবের দুই সিনেমা
- আর্জেন্টিনার কাছে ৪ গোল হজম, ক্ষমা চাইলেন ব্রাজিল অধিনায়ক
- আড়াই প্যাঁচের জিলাপিতে এত গুণ
- হার্ট অ্যাটাক: জীবন বাঁচাতে শিখে নিন সিপিআর পদ্ধতি
- তরমুজের সাদা অংশ খেলে পাবেন ৬ উপকার
- সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা সন্জীদা খাতুনের বিদায়
- হার্ট অ্যাটাক নিয়ে ৭ মিথ
- আমের পাতাও ফেলনা নয়, রয়েছে হাজারো গুণ
- সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা সন্জীদা খাতুনের বিদায়
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাবেন যে ৫ ফল
- ঈদের ছুটি: বাড়ির নিরাপত্তা জোরদার করার যত উপায়
- রাকসু গঠনতন্ত্র বিষয়ক কিছু পরামর্শ
- ভূমিকম্প হওয়ার আগে সতর্ক করবে গুগল
- হার্ট অ্যাটাক নিয়ে ৭ মিথ
- তরমুজের সাদা অংশ খেলে পাবেন ৬ উপকার
- ও আলোর পথযাত্রী, এখানে থেমো না
- আবারও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে তামিমের: চিকিৎসক
- শতাধিক গাড়ির বহর:জারার প্রশ্ন,জবাবে দাদার সম্পত্তি দেখালেন সারজিস
- উসকানিতে প্রভাবিত না হতে বললেন সেনাপ্রধান
- আড়াই প্যাঁচের জিলাপিতে এত গুণ
- বাসায় ফিরেই ফেসবুকে পোস্ট তামিমের, যা জানালেন
- আর্জেন্টিনার কাছে ৪ গোল হজম, ক্ষমা চাইলেন ব্রাজিল অধিনায়ক
- ‘ছাত্র-জনতার দাবিতে’ কাপড় দিয়ে ঢাকা হলো মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল
- রোববার বসছে চাঁদ দেখা কমিটি, জানা যাবে কবে ঈদ
- সারজিসের গাড়িবহরের অর্থায়ন নিয়ে ব্যাখ্যা চাইলেন তাসনিম জারা
- ঘুষি মেরে বেশ করেছি, ও যা নোংরামি করেছে এটাই প্রাপ্য: শ্রাবন্তী
- ঈদের আগে চাকরি হারালেন রাসিকের ১২০ কর্মচারী